টাইপিং স্পিড টেস্ট কী, আর কার কাজে লাগে?
এটা একটা সাধারণ গতি আর নির্ভুলতার মাপ: নির্দিষ্ট সময়ে তুমি দেওয়া লেখার কতটুকু ঠিকঠাক টাইপ করতে পারো। পাঁচ অক্ষরে এক শব্দ ধরে হিসাব হয়, যেটা সব টাইপিং টেস্টের প্রচলিত নিয়ম, তাই অন্য জায়গার স্কোরের সাথে মেলানো যায়।
ফ্রিল্যান্সিং বা ডেটা এন্ট্রির কাজে নামতে চাওয়া তরুণ, কম্পিউটার অপারেটর পদে আবেদনকারী, কলেজের ছাত্র যার হাতে লেখার চেয়ে টাইপ বেশি, আর যে কেউ যে বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত মেসেজ লেখে বলে দাবি করে, সবার জন্যই।

টেস্টটা কীভাবে চলে, সময় কখন শুরু হয়?
সময় বেছে নেওয়ার পর অনুচ্ছেদটা দেখা যায় কিন্তু ঘড়ি চলে না। বক্সে প্রথম অক্ষর লিখলেই কাউন্টডাউন শুরু, তাই লেখাটা একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে। টাইপ করতে করতে ওপরে গতি আর নির্ভুলতা লাইভ বদলাতে দেখবে।
ভুল অক্ষর লাল হয়ে যায় আর নির্ভুলতা কমায়, তবে ব্যাকস্পেস দিয়ে ঠিক করা যায়। সময় শেষ হলে বা অনুচ্ছেদ শেষ করলে রেজাল্ট আসে, যেখানে WPM, নির্ভুলতা আর অক্ষরসংখ্যা একসাথে দেখানো হয়।
কেমন লেখা টাইপ করতে হয়?
অনুচ্ছেদগুলো বাংলায় লেখা, সহজ শব্দে, যাতে বানান নিয়ে ভাবতে না হয়, শুধু আঙুল চালাতে হয়। প্রতিবার র্যান্ডমভাবে একটা আসে, যেমন:
- সন্ধ্যায় পাহাড়ের পেছনে সূর্য ডোবা আর মোড়ের চায়ের দোকানে গল্প জমে ওঠার বর্ণনা
- দ্রুত টাইপ শেখার ছন্দ নিয়ে একটা ছোট পরামর্শ, কবজি শিথিল আর চোখ স্ক্রিনে
- ভোরে শহর জাগার আগে রুটিওয়ালার দোকান খোলা আর সাতটার মধ্যে লাইন মোড় পর্যন্ত পৌঁছানো
- সমুদ্রের গভীরে অন্ধকারে জ্বলা প্রাণীদের নিয়ে একটা কৌতূহলী অনুচ্ছেদ
WPM কত হলে ভালো, আর নির্ভুলতা কেন জরুরি?
ফোনে বেশিরভাগ মানুষ মিনিটে ২৫ থেকে ৪০ শব্দে থাকে, কিবোর্ডে ৪০ থেকে ৬০ হলো স্বচ্ছন্দ অফিস গতি, ৭৫-এর ওপরে সত্যিই দ্রুত আর ৯৫ পেরোলে প্রতিযোগিতার লেভেল। বাংলায় যুক্তাক্ষর আর কার-চিহ্নের কারণে একই গতিতে ইংরেজির চেয়ে বেশি কি চাপতে হয়, তাই বাংলার সংখ্যাটা একটু কম হওয়া স্বাভাবিক।
নির্ভুলতা ৯৫ শতাংশের নিচে নামলে গতির কোনো দাম নেই, কারণ ভুল ঠিক করতে যে সময় যায় তাতে ধীর কিন্তু নিখুঁত টাইপিস্ট এগিয়ে যায়। আগে নির্ভুলতা, গতি নিজে থেকে আসবে।
অভ্র দিয়ে বাংলা টাইপ করা মানুষ কেন এই টেস্ট দেয়?
অভ্র ফোনেটিকে বাংলা লেখা শিখেছে এমন একটা পুরো প্রজন্ম আছে, আর তাদের মধ্যে একটা পুরোনো তর্ক: ফোনেটিক দ্রুত, নাকি বিজয়? এই টেস্ট সেই তর্ক সংখ্যায় মিটিয়ে দেয়। দুজন পাশাপাশি বসে একই অনুচ্ছেদ টাইপ করে, আর যে হারে সে পরের চা খাওয়ায়।
কম্পিউটার অপারেটর বা ডেটা এন্ট্রি পদের বিজ্ঞপ্তিতে প্রায়ই মিনিটে নির্দিষ্ট শব্দের শর্ত থাকে, তাই অনেকে পরীক্ষার আগে ঘরে বসে নিজের অবস্থান দেখে নেয়। আর যারা ফেসবুকের কমেন্টে সবার আগে জবাব দেয়, তাদের জন্য এটা শুধু নিজের দ্রুত আঙুলের প্রমাণ।
টাইপিং স্পিড টেস্ট নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
টাইপিং স্পিড টেস্টে WPM কীভাবে হিসাব হয়?
সঠিকভাবে টাইপ করা মোট অক্ষরকে পাঁচ দিয়ে ভাগ করে শব্দসংখ্যা বের হয়, তারপর সেটাকে তোমার নেওয়া সময় দিয়ে ভাগ করে মিনিটের হিসাবে আনা হয়। তাই লম্বা শব্দ বা ছোট শব্দ কোনোটায় বাড়তি সুবিধা নেই, আর ভুল অক্ষর গোনা হয় না।
ফোনে বাংলা টাইপিং স্পিড কত হলে ভালো?
গুগল কিবোর্ড বা অভ্র অ্যাপে বেশিরভাগ মানুষ মিনিটে ২০ থেকে ৩৫ শব্দ পায়। ৪০ পেরোলে তুমি ফোনে বেশ দ্রুত, ৫০-এর ওপরে উঠলে দুই আঙুলে চ্যাট করা মানুষের মধ্যে একদম ওপরের সারিতে। সোয়াইপ বা গ্লাইড টাইপিং চালু থাকলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বাংলা টাইপিং দ্রুত করার উপায় কী?
একটা লেআউটে থিতু হও, ফোনেটিক বা বিজয়, আর বারবার বদলিও না। কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়ে স্ক্রিনে চোখ রাখো, যুক্তাক্ষরগুলোর কি-কম্বিনেশন মুখস্থ করো আর প্রতিদিন পাঁচ মিনিট এই টেস্ট দাও। দুই সপ্তাহে সাধারণত দশ শব্দের মতো বাড়ে।
৩০, ৬০ না ১২০ সেকেন্ড, কোনটা বাছব?
প্রথমবার ৬০ সেকেন্ড নাও, এটাই সবচেয়ে প্রচলিত মাপ আর অন্যদের স্কোরের সাথে মেলানো যায়। ৩০ সেকেন্ডে শুরুর ঝটকায় সংখ্যা একটু বেশি দেখায়। ১২০ সেকেন্ডে আসল সহ্যশক্তি বোঝা যায়, কারণ এক মিনিটের পর বেশিরভাগ মানুষের গতি পড়ে যায়।
নির্ভুলতা কত শতাংশ হলে চলে?
৯৫ শতাংশের ওপরে থাকলে ভালো, ৯৮-এর ওপরে চমৎকার। নিচে নামলে বুঝবে তুমি ক্ষমতার চেয়ে জোরে চালাচ্ছ। একটু ধীরে কিন্তু ভুল ছাড়া টাইপ করলে কয়েকদিনেই দেখবে নির্ভুলতা ধরে রেখেই গতি আগের জায়গায় ফিরে এসেছে।
ল্যাপটপে টাইপ করলে কি স্কোর বেশি আসে?
প্রায় সবারই আসে, কারণ দশ আঙুল আর আসল কি-এর স্পর্শ টাচস্ক্রিনের চেয়ে অনেক দ্রুত। তাই ফোনের স্কোর আর ল্যাপটপের স্কোর আলাদা রাখো, দুটো মেলানো ন্যায্য নয়। বন্ধুর সাথে তুলনা করতে চাইলে একই ধরনের ডিভাইসে দাও।
আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো
- রিঅ্যাকশন টাইম টেস্টস্ক্রিন সবুজ হওয়ার মুহূর্তে ট্যাপ করো। পাঁচ রাউন্ড, মিলিসেকেন্ডে তোমার গড়। বন্ধুদের চেয়ে দ্রুত?
- আইকিউ টেস্ট৩০টির ভাণ্ডার থেকে ২০টি লজিক, প্যাটার্ন, সংখ্যা আর শব্দের ধাঁধা। লজিক লেভেল জানো আর বন্ধুদের চ্যালেঞ্জ করো।
- কালার ব্লাইন্ড টেস্ট১২টি বিন্দুর প্লেটের প্রতিটিতে একটা সংখ্যা লুকানো। দেখো কয়টা পড়তে পারো আর দুই মিনিটে রঙের দৃষ্টি যাচাই করো।